এমন মিথ্যার সমাজে এক ঘণ্টা বেঁচে থাকাও দায়

48370065_2139768129607407_2242379034849705984_n-6.jpg

জনগণ ক্ষমতার মালিক। এই মালিকানা যেকোনো মূল্যে মানুষ প্রতিষ্ঠা করবেই। বেঁচে থাকতেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা দেখে যাব। বলছিলেন, গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাগো নিউজের কাছে প্রতিক্রিয়া দেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। ড. কামাল বলেন, ‘এই নির্বাচন ব্যবস্থা গোটা জাতিকে লজ্জিত করেছে। মানুষ হতাশ। যেভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে, তা প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলছি। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।’

‘স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশ। ৩০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছিল মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু সারাজীবন লড়াই করেছেন। অথচ সেই আওয়ামী লীগ আজ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।’

‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা জোট করেছি। মানুষ আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। আমরা স্বৈর-ব্যবস্থার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলছি। আমরা সংসদ এবং সংসদের বাইরে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। জনগণ ক্ষমতার মালিক। মালিককে তার অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। আমরা সেই অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম।’

‘নির্বাচন সুষ্ঠু করার তাগিদে আমরা সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী সংলাপে বললেন, তার ওপর আস্থা রাখতে। জানতাম, দলীয় সরকারের অধীনে কোনোভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। যা ভেবেছিলাম, তার চেয়ে বেশি ডাকাতি করলো সরকার’- যোগ করেন কামাল।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণফোরাম সভাপতি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে আসছিল। পুলিশ এভাবে বেপরোয়া হতে পারে, কল্পনা করতে পারিনি। তফসিল ঘোষণার পর গায়েবি মামলা দিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হলো। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা শেষদিন পর্যন্ত মাঠে নামতে পারলো না হামলা আর মামলার কারণে। একেবারে মধ্যযুগীয় কায়দায় মাঠ দখল করে রাখলো। এমন সময়ে এমন বর্বর আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশা করা যায় না। সংঘর্ষ না থামিয়ে সেনাবাহিনীর দৌড়ে পালানোর ঘটনাও মিডিয়াতে প্রকাশ পেল। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। এমন মিথ্যার সমাজে এক ঘণ্টা বেঁচে থাকাও দায়।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত গুন্ডা কীভাবে লালন করেছে সরকার! ভোটকেন্দ্রে মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। রাত থেকে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। ভোটের এই সংস্কৃতি তৈরির দায় সরকারের। এর মধ্য দিয়ে সমাজে অবিচার বৈধতা পেল। আইনের শাসন বলতে আর কিছুই থাকবে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হলো। তবে অত্যাচারের শেষ আছে। বেঁচে থাকতেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা দেখে যাব। আর জীবনের শেষ বেলা পর্যন্ত জনগণের জন্য লড়াই করে যাব।

এমএআর/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন