উপকূলীয় ৪ উপজেলায় এখন সহজে মিলছে ‘ইয়াবা’

Presentation1-21.jpg

ডেস্ক নিউজ  :
প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকায় টেকনাফ, উখিয়া, সদর ও রামু উপজেলা ছাড়াও উপকূলীয়  ৪ উপজেলায় প্রতিটি গ্রামেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা। কয়েকটি এলাকায় পুলিশের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। যার ফলে স্থানীয় কেউ মুখ খুলছে না ইয়াবা ব্যবসায়িদের বিরুদ্ধে।
ইয়াবা বিরোধী অভিযানে প্রশাসনের নজর টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার সদর কেন্দ্রিক হওয়ায় হওয়ায় উপকূলীয় এলাকা মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও কুতুবদিয়ায় সহজ প্রাপ্য মাদক হিসাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। হাত বাড়ালেই এখন সহজেই মিলছে ইয়াবা। এমন পরিবার আছে যাদের সকল সদস্যই ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। ইয়াবা বিরোধী অভিযান জোরদার করার আগে অনেকে জেল হাজত থেকে বের হয়ে আবারো প্রকাশ্যে নেমে পড়েছে ইয়াবা ব্যবসায়। এতে প্রশাসনের নজদারী না থাকায় এমনটি হচ্ছে এমন অভিযোগ আছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে চকরিয়ার বদরখালীতে ২৩ জন ইয়াবা ব্যবসায়ি আছে। তৎমধ্যে ৩ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে ফাঁিড়র পুলিশ। অন্যরা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। যারা এখনো জেলের বাইরে আছে তাদের মধ্যে বাজার পাড়ার হাসিনা বেগম ও আলমাস খাতুন অন্যতম। বেশীর ভাগ ইয়াবা ব্যবসায়ি বদরখালী ৪নং ওয়ার্ডের বাজার পাড়ার।
পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি ইউনিয়নেই ৪/৫ জন করে ইয়াবা ব্যবসা করে। এরা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে পেকুয়াতে খুচরা বিক্রি করে। এ ছাড়া কুতুবদিয়াতেও সরবরাহ করে ইয়াবা। এখানে পুলিশ প্রশাসনের ইয়াবা বিরোধী কোন তৎপরতা না থাকায় এখন প্রকাশ্যেই চলছে ইয়াবা ব্যবসা। এই মাদক থামানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরো ইউনিয়নটা নষ্ট করে দিচ্ছে ৩টি পরিবার। এই ৩ পরিবারই ৯ নং ওয়ার্ডে। তৎমধ্যে একজন মিজ্জির পাড়ার দেলোয়ার, আর দুইজন আধাঁরঘোনার ইউনুচ ও ছানা উল্লাহ। ছানা উল্লাহ এক সময় জলদস্যুদের স¤্রাট হিসাবে পরিচিত থাকলেও পুলিশের ক্রসফায়ারে পা কেটে ফেলার পর পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। এই ৩ জনই ইয়াবা নিয়ে সিন্ডিকেট ব্যবসা করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে। এতে দুইটি চালানের একটি চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটে আটক করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয় একজনকে। আরেকটি চালান সহ ঢাকায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গেপ্তার করে দেলোয়ার কে। বর্তমানে তারা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। তাদের পরিবারের সকল সদস্যই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এদের সাথে নিয়ামিত যোগাযোগ আছে পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জাহাঙ্গীরের। সন্ধ্যা হলেই এদের সাথে গোপন বৈঠক করেন এই টু আইসি।
কুতুবদিয়া যুবলীগের আহবায়ক আবু জাফর ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, সম্প্রতি কুতুবদিয়ায় মাদক ব্যবসা অনেক কমে এসেছে। বর্তমান ওসির তৎপরতায় কিছুটা পরিবেশ ফিরে এসেছে। কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ দিদারুল ফেরদৌস জানিয়েছেন, ইয়াব বিরোধী অভিযান কুতুবদিয়ায় আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে। এ সব ব্যবসায় যারা জড়িত হবে এদের করুন পরিণতি হবে। কোন ইয়াবা ব্যবসায়িই ছাড় পাবে না।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাস চন্দ্র ধর জানিয়েছেন, কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করে না। পুলিশ খবর পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইয়াবা বিরোধী অভিযান বন্ধ হয়নি, আরো জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন