ইয়াবা কারবারীদের বাড়ি বাড়ি সাঁড়াশি অভিযান

1056_me.jpg

আজিম নিহাদ :
কক্সবাজারে ইয়াবা কারবারিদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান। আয়োজন করে অভিযান করায় রাজপ্রাসাদে পাওয়া যাচ্ছে মাদক কারবারীদের। তবে সাঁড়াশি এই অভিযানে ইয়াবা কারবারীরা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গত বুধবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজার শহরে ও টেকনাফে টাস্কফোর্সের এই অভিযান শুরু হয়। প্রথমদিনে ২০ জন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
দ্বিতীয় দিনের অভিযানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের শীর্ষ মাদক কারবারি খোরশেদ আলম বাপ্পির (৩৫) বাড়িসহ ৪জন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীর বাড়িতে অভিযান চালায় টাস্কফোর্স।
জানা গেছে, খোরশেদ আলম বাপ্পি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মাদক মামলা আছে। মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে দুইবার কারাভোগও করেছেন। বাপ্পি শহরের ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের ডিপো হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবারের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী। অভিযানে ছিলেন র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, কক্সবাজারে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীদের বাড়িতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রথমদিনে বুধবার কক্সবাজার শহর ও টেকনাফে ২০ জন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারের অভিযানে কক্সবাজার শহরের ৪ জন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন- শহরের টেকপাড়া চৌমুহনী এলাকার ছৈয়দ আহমেদের ছেলে খোরশেদ আলম বাপ্পি (৩৫), একই এলাকার শাহনাজ, সাহিত্যিকাপল্লী এলাকার মাহমুদুল হক, দক্ষিণ তারাবুনিয়ারছড়া এলাকার মোহাম্মদ ঈসমাইল। অভিযানে সাহিত্যিকপল্লী এলাকার মাদক কারবারী মাহমুদুল হকের ছেলে তানিমুল হককে (১৯) আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার সার্কেলের পরিদর্শক আব্দুল মালেক জানান, চারজন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীর বাড়িতে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে তালিকাভুক্ত একজন মাদক কারবারীর ছেলেকে আটক করা হয়েছে। টাস্কফোর্সের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বুধবার প্রথম দিনে শহরের শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার শাহজাহান আনচারীর রাজপ্রাসাদে অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। শাহজাহান আনচারীর বাড়ি বাসটার্মিনাল সংলগ্ন ঝিলংজা নোঙরের পাশে ইসলাপুর এলাকায়। একই সময় মাদক কারবারের তালিকাভুক্ত শাহজাহান আনচারীর আরও তিন ভাই কাশেম আনচারী, সুফিয়ান আনচারী ও রশিদ আনচারীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। বাড়িতে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় পরে কলাতলীর হোটেল মোটেল জোনে শাহজাহান আনচারী কর্তৃক ভাড়ায় পরিচালিত হোটেল লেগুনা বীচ ও হোটেল জামানেও অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য অধিপ্তরের পরিচালক মাসুদ রব্বানি।
একইদিনে টেকনাফে পৃথক অভিযান চালায় যৌথ টাস্কফোর্স। এই অভিযানে নেতৃত্বে দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সোমেন মন্ডল। তিনি জানান, টেকনাফে তালিকাভুক্ত ১৫ জন মাদক কারবারীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
টেকনাফে যেসব তালিকাভুক্ত মাদক কারবারীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয় তারা হলেন- টেকনাফের নাইট্যংপাড়া এলাকার জহুর আহমদের ছেলে মো. জাকের (৫০), একই এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে সৈয়দ হোসেন (৪৫), মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী আনজুমান আরা বেগম (২৫), মো. রফিকের স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৫), নাইট্যংপাড়া বাসটার্মিনাল এলাকার আমির হোসেনের ছেলে মো. ইউনুছ (৩০), তার ভাই জাফর আলম, একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে নুর হোসেন (৫৭), ডেইলপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে নুরুল আমিন (৩৫), গোদারপাড়া এলাকার মৃত কালামিয়ার ছেলে আবু ছৈয়দ মেম্বার, ডেইলপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল আমিন (২৯), আলীরডেইল এলাকার, মৃত নজির আহমদের ছেলে শাহেদ কামাল (৩৫), সাবরাংয়ের মন্ডলপাড়া এলাকার হাজী আমির হামজার ছেলে খায়ের হোসেন (৪০), একই ইউনিয়নের মুন্ডারডেইল এলাকার কবির আহমদের ছেলে মো. রফিক (৩২), একই এলাকার কবির আহমদের ছেলে মো. শাকের ওরফে শাকের মাঝি ও গোদারবিল এলাকার আলী আহম্মদ চেয়ারম্যানের ছেলে জিয়াউর রহমান (২৫)।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদক ব্যবসার টাকায় কারবারীরা আলিশান বাড়ি তৈরী করেছেন। দেখে মনে হয়, এক একটি রাজপ্রাসাদ। তবে রাজপ্রাসাদে কাউকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, আয়োজন করে অভিযান করায় আগে থেকে সর্তক হয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবারীরা। এতে করে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় অভিযান আলোর মুখ দেখছে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন