আমাদের মেরে উল্টো মামলা দিচ্ছে সরকারি দল : ধানের শীষ প্রার্থী কাজল

Presentation1-15.jpg
আহামদ গিয়াস

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল অভিযোগ করেছেন, ধানের শীষের জনপ্রিয়তায় পাগল হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। আমাদের মেরে উল্টো মামলার চক্রান্ত করছে সরকারি দল।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এ অভিযোগ করেন।

শহরের শহিদ সরণীস্থ দলের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল ভোট করতে মাঠে যাচ্ছেন না। ভোট ছাড়া এমপি হতে চাচ্ছেন। চেয়ারম্যান ইউনুস ভুট্টো, আবদুল মাবুদসহ চিহ্নিত কিছু লোক প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দিচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমরা নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। মাঠেই থাকবো। কোনো ধরনের ভয়ভীতি পরোয়া করি না। জনগণ আমাদের সাথে আছে।’

কাজল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি নষ্ট করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল নিজেই। আমরা শক্ত মনোবলে মাঠে নেমেছি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাঠেই থাকব। ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরব।’

পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।

তিনি বলেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বর ধানের শীষের প্রচারণাকালে উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো. আনচারুল হককে মারধর করে উল্টো ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ধারাবাহিক হামলা-মামলা শুরু করেছে। আমাদের জানা মতে এ পর্যন্ত রামুতে তিনটি মামলা হয়েছে। আরো কিছু মামলা করার পরিকল্পনা করার কথা শোনা যাচ্ছে। বুধবার রাতে রামুতে বিএনপি অফিস ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পিটিয়ে অন্তত ৩০ জনকে আহত করা হয়েছে। অনেকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মিথ্যা মামলার খবর পেয়ে আহতদের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’

কাজল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পরিকল্পনামতে দোকানে, গাড়িতে অাগুন দিয়ে উল্টো মামলা করা হচ্ছে। আমাদেরকে নির্বাচন থেকে সরানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরও আমরা শান্ত অাছি। ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো. আলী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সাবেক পৌর কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা এডভোকেট সাহাব উদ্দিন, এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, এডভোকেট আবদুল কাইয়ুম, গিয়াস উদ্দিন জিকু, আমির আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপনসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় রামু উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরীসহ অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলা থেকে বাদ পড়েনি শিশুও।

বুধবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে রামু ফতেখারকুলে বিএনপি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহত ধানের শীষের সমর্থকদের দেখতে বুধবার গভীর রাতে জেলা সদর হাসপাতালে ছুটে যান কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে আহত সমর্থকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা হাসপাতাল অঙ্গনে ভিড় জমায়। তারা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
রাতে জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, একের পর একজন আহত ধানের শীষের সমর্থক আসছে। ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসা নিচ্ছে। এমন দৃশ্য পুরো হাসপাতাল অঙ্গনে ভিন্ন পরিবেশ তৈরী করে।

স্থানীয়রা জানায়, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের নেতৃত্বে শতাধিক নৌকা মার্কার সমর্থক লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র বিএনপি’র কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী, উপদেষ্টা আব্দুল করিম সওদাগর, যুগ্ম সম্পাদক টিপু সুলতান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুল আবছার মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম, রামু উপজেলা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক জিল্লুর রহমান, উপজেলা কৃষকদল সাধারণ সম্পাদক হেমসেল সরওয়ার, যুবদলের অর্থ সম্পাদক শওকত আলম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সদস্য মুবিন উল্লাহ, সিরাজুল হক, রাশেদুল করিমসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসা নিতে দেখা যায় ফেরদৌস, জসিম উদ্দিন, আবদুল গফুর, ছৈয়দ আলম, আবদুল হামিদ, আবুল হাশেম, মামুনুর রশিদ, নুরুল আলম, মোহাম্মদ হোছন, নাসির উদ্দিন, মোকতার আহমদ, ডা. আবদুল করিম, মো. কালু, মতিউর রহমান, রিদওয়ান, আবদুর রহমান, জহির আলম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

বিএনপি মনোনীত ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল অভিযোগ করে বলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার কাজ শেষে নেতাকর্মীরা অফিসে বসলে অতর্কিত সশস্ত্র হামলা করে আওয়ামী লীগের ক্যাডারেরা। হামলাকালে খোদ আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল উপস্থিত ছিলেন। তার নিদের্শেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটে। মারধর ও লাঞ্চিত করা হয়েছে দলের অনেক সিনিয়র পর্যায়ের নেতাকে। এ সময় অফিসের সামনে থাকা ৭টির মতো মোটরসাইকেল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে অফিসও।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি’র গণজোয়ার দেখে সরকারি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা জনরায়ে ভীত হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। বিএনপি সমর্থকদের উপর পরিকল্পিত হামলা চালানো শুরু করেছে। ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা না চালাতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।’

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল।

রামু উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী জানান, এমপি কমলের উপস্থিতিতেই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটানো হয়। হামলার জন্য তিনি নিজেই উস্কে দেন নেতাকর্মীদের। তারা ধানের শীষের প্রচারণা গাড়ি ভাঙচুর ও প্রচার সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায়। হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেয় অন্তত ৭টি মোটরসাইকেল।

ঘটনার বিষয়ে জানতে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল মনসুরকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
Top