আনা আর লরেনের অন্য জীবন

917fb502408bd0ea99d219e355a99688-5bd6a731df78c.jpg

শিশু অবস্থায় যমজ বোন আনা ও লরেন। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

তাঁরা দুই বোন ছিলেন এক আত্মা, এক প্রাণ। আইডেনটিক্যাল টুইন বা অভিন্ন চেহারার যমজেরা যেমনটি হয়ে থাকে, তেমনই গভীর সম্পর্ক ছিল তাঁদের। একই বিছানায় ঘুমাতেন। একসঙ্গে পড়তেন। চেহারায় যেমন মিল, শখগুলোও ছিল একই রকম। দুজনই বাস্কেট বল ও টেনিস পছন্দ করতেন। এক দুর্ঘটনা এই আইডেনটিক্যাল টুইনের জীবন লন্ডভন্ড করে দিয়েছে।

বিজ্ঞানের ভাষায়, আইডেনটিক্যাল টুইন বা মনোজাইগোটিক শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে একটি ডিম্ব একটি মাত্র শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এই যমজেরা দেখতে হুবহু এক রকম হয় এবং একই লিঙ্গের হয়। আর ফ্র্যাটারনাল টুইনস বা ডাইজাইগোটিক সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে দুটো পৃথক ডিম্বাণু পৃথক শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হয়ে থাকে। এই যমজেরা ছেলে-ছেলে, মেয়ে-মেয়ে বা ছেলে-মেয়ে হতে পারে। তাদের চেহারা এক রকম হতেও পারে, নাও পারে। বিশ্বের বেশির ভাগ টুইন ফ্র্যাটারনাল।

বিবিসির প্রতিবেদনে যমজ দুই বোন আনা ও লরেনের আবেগময় গল্পগুলো উঠে এসেছে। দুই বোনের তরুণ বয়সের নানা মুহূর্ত প্রকৃত ছবি ব্যবহার না করে অলংকরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছে বিবিসি। আনা ও লরেনের বয়স ২৩ বছর। আনার ভাষায়, লোকজন তাঁদের ‘টু্ইন’ বলে ডাকত। জন্মদিনের নিমন্ত্রণ জানানো হতো দুই বোনকে একটি কার্ড দিয়েই। আর লরেনের ভাষায়, অনেকের বিশ্বাস ছিল, তাঁরা দুজন একে অপরের মন পড়তে পারেন। তাঁর যদি কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়, তাহলে একমাত্র ব্যক্তি হচ্ছেন আনা।

বড় বোন আইশার সঙ্গে স্কটল্যান্ডে বড় হয়েছেন দুই বোন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর কিশোরী বয়সে তাঁরা যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড শহরে বাবার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। আইশা স্কটল্যান্ডেই রয়ে যান।

তিন বছর আগে আনা নিজের ভবিষ্যতের ব্যাপারে মনোযোগী হন। তিনি গ্রাফিক ডিজাইনে পড়া শুরু করেন এবং গাড়ি চালনার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন। সে সময় লরেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, তিনি কী করবেন। তিনি শিক্ষানবিশ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেন, মনোবিজ্ঞানের কিছু কোর্স নেন। তবে কোনো কিছুতেই সেভাবে লেগে থাকতে পারছিলেন না।

রাতে বাড়ির কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় দুই বোন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতেন। তারাভরা রাতে পাহাড়ি ছিমছাম সুন্দর জায়গায় হেঁটে বেড়ানোর সময় তাঁদের কোনো তাড়া থাকত না। কথায় কথায় দুজনে হাসিতে ফেটে পড়তেন, ঠাট্টা–তামাশা করতেন।

রাতের অন্ধকারে এভাবে হেঁটে বেড়ানো তাঁরা দারুণ উপভোগ করতেন। তবে একদিন সেটাই তাঁদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।

ঘটনাটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের। কনসার্ট দেখে দুই বোন বাড়ি ফিরছিলেন। দুজনে হাঁটার সময়টাকে দীর্ঘ করতে ওই দিন এক স্টপেজ আগেই বাস থেকে নেমে পড়েন। দুর্ভাগ্যই ছিল তাঁদের নিয়তি। আনা রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ি এসে তাঁকে ধাক্কা দেয়। তাঁর মাথা গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে লাগে। তিনি উড়ে গিয়ে পিচের রাস্তায় আছড়ে পড়েন।

রাস্তার ওপাশে তখন ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব লরেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো ভাবছি যে আনা এখুনি রাস্তা থেকে উঠে দাঁড়াবে—এখুনি দাঁড়াবে। কিন্তু না, সে দাঁড়ায়নি। আমি তার কাছে দৌড়ে গেলাম। গিয়ে দেখলাম তার শরীর কাঁপছে। আমি তার গায়ের ওপর জ্যাকেট জড়িয়ে দিলাম, ভাবলাম কাঁপুনি থামবে। কিন্তু না। আমি চিৎকার করে লোকজনের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য সাহায্য চাইলাম।’

লরেন ওই সময় কিছুটা আশ্বস্ত হন, আনার নিশ্বাস পড়ছে। মাথার এক পাশ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। ওই পথ দিয়ে একজন চিকিৎসক যাওয়ার সময় তাঁদের সাহায্য করেন। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর বাবাকে ফোন দেন লরেন। বাবা ছুটে আসেন।

লরেন বলেন, ‘হাসপাতালে আমার পা এমন কাঁপছিল যে বাবা হাত দিয়ে আমার পা চেপে ধরেন।’

আনা সে যাত্রা প্রাণে বেঁচে গেলেও দুর্ভাগ্যকে বরণ করে নেওয়া ছাড়া তাঁর কোনো উপায় ছিল না। এক দুর্ঘটনা বিষিয়ে তোলে তাঁর জীবন। আনার পাগুলো ভেঙে গিয়েছিল। তাঁর কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত টাইটানিয়াম রড লাগানো হয়। চার দিন পর তাঁর অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে কাছের এক হাসপাতালে নিউরো-ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর আনার কিছু উন্নতি হতে দেখা যায়। প্রথমে কয়েক মুহূর্ত, পরে কয়েক মিনিটের জন্য চোখ খুলতে পারেন আনা। হাত ঘোরাতে পারেন এবং বাবা ও বোনকে চিনতে পারেন। এরপরও দুশ্চিন্তার সবচেয়ে বড় কারণটি থেকেই যায়।

লরেন বলেন, ‘আনা বলা শুরু করত, লরেন কোথায়, লরেন কোথায়? আমি তার হাত ধরে বলতাম, এই তো আমি এখানে। কিন্তু সে বলে যেতেই থাকত, লরেন কোথায়, লরেন কোথায়। এটা এত ভীতিকর ছিল!’

এরপর লরেনের দৈনন্দিন কাজের অংশ হয়ে যায় প্রতিদিন যমজ বোনকে হাসপাতালে দেখতে যাওয়া। একপর্যায়ে বাড়ি যাওয়া এবং একটু বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে তাঁর জন্য। প্রায়ই দুর্ঘটনার দিনটির কথা মনে করে ভয়ে তিনি কাঁপতেন। নিজেকে দোষী মনে হতে। রাগে–ক্ষোভে ফেটে পড়তেন।

লরেন বলেন, ‘আমার এত রাগ হতো, রাগে দরজায় লাথি দিতাম। রাগ কমানোর জন্য এ ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পেতাম না। জানতাম না, কেন আনা এমন হয়ে যাচ্ছে।’

দুই বোনকে নিয়ে বিবিসির ইলাস্ট্রেশন।দুই বোনকে নিয়ে বিবিসির ইলাস্ট্রেশন।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করলেন যে আনার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং কী পদ্ধতিতে সুস্থ হবে, তা বলা যাচ্ছে না। মাথায় আঘাতের কারণে আনার স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এ ধরনের রোগীদের একেকজন একেক রকম।

একবার আনার বড় বোন আইশার সন্তানের আলট্রাসাউন্ড স্ক্যানের ছবি আনাকে দেখালেন তাঁর মা। ওই ছবি দেখে আনা বিশ্বাস করতে শুরু করলেন স্ক্যানটি তাঁর। ২০১৬ সালেও আনা ভাবতেন, এটা ২০১৫ সাল। ওই সময় শুধু ২০১৫ সালের কথাই তিনি মনে করতে পারতেন।

আনা দুর্ঘটনায় আঘাত–পরবর্তী অ্যামনেশিয়ায় ভুগছিলেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যাকে অ্যামনেশিয়া বলা হয়। এটা মস্তিষ্কের ক্ষতি, রোগ ও মানসিক সমস্যা থেকে হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সেডেটিভ ও হিপনোটিক ড্রাগের কারণেও অ্যামনেশিয়া হতে পারে। ক্ষতির মাত্রার ওপর স্মৃতিশক্তি পুরোপুরি বা আংশিক লোপ পেতে পারে। সাধারণত দুই ধরনের অ্যামনেশিয়া হয়। রেট্রোগ্রেড ও অ্যান্টেরোগ্রেড। রেট্রোগ্রেড অ্যামনেশিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা একটি নির্দিষ্ট সময় যেমন দুর্ঘটনার দিনের বা অস্ত্রোপচারের আগের তথ্য মনে করতে পারেন না। অনেকে কয়েক দশক আগের তথ্যও মনে করতে পারেন না। কারও কারও কয়েক মাসের স্মৃতি চলে যায়। আর অ্যান্টেরোগ্রেড অ্যামনেশিয়ায় আক্রান্ত রোগী স্বল্পমেয়াদি ভান্ডার থেকে দীর্ঘমেয়াদি ভান্ডারে নতুন তথ্য স্থানান্তর করতে পারেন না। এই রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কিছু মনে রাখতে পারেন না।

আনা কিছু মনে রাখতে পারতেন না। দুর্ঘটনার এক মাস পর নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন ইউনিটে স্থানান্তরের সময়ের একদিনের ঘটনা প্রথমবার তাঁর স্মৃতিতে ধরা দেয়। আনা বলেন, ‘মনে আছে, আমি খুব দ্বিধান্বিত ছিলাম এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। আমি লরেনের সাহায্য চাইতাম। আমি স্নান করতে চাইলে লরেন আমাকে স্নানঘরে নিয়ে যেত। দেখিয়ে দিত কোথায় তোয়ালে, শ্যাম্পু ও পরিষ্কার পোশাক রাখা আছে। তা না হলে এসব জিনিস কী কারণে ব্যবহার হয়, তা আমি জানতাম না।’

স্মৃতি ফেরানো, পরিকল্পনা করা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সক্ষমতা গড়ে তুলতে আনার অকুপেশনাল থেরাপি শুরু হয়।

এর মধ্যে লরেন তাঁর বোনকে হাসপাতালে নিয়মিত সময় দিতে থাকেন। তিনি লক্ষ করেন, আনা মানসিক অবসাদে ভুগছেন। কোথায় যেন হারিয়ে যায় তাঁর দৃষ্টি। টিভি দেখার সময় টিভির দিকে না তাকিয়ে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

লরেনও একসময় ক্লান্তি বোধ করা শুরু করেন। তাঁর কোনো ছুটি ছিল না। প্রতি সকালেই তিনি ফোনে আনার খুদে বার্তা পেতেন এবং তখনই তাঁকে উত্তর দিতে হতো।

লরেন বলেন, ‘সকালে আনাকে কী করতে হবে তা লিখে তাঁর পাশে রাখা হতো। আমরা যখন তাঁর পাশে থাকতাম, তখনো সে ফোনে বার্তা পাঠিয়ে যেত, “কোথায় তোমরা? তোমরা কি কাছাকাছি আছ? আমি কীভাবে তোমাদের দেখব?” তাঁর সামনে খাবার ও পোশাক রেখে বলতে হতো, “পোশাক পরো, খেয়ে নাও।” তা না হলে সে বুঝতে পারত না এগুলো দিয়ে কী করবে।’

এভাবেই দুই বোন একে অপরের হাত ধরে চলেন। বিবিসির ইলাস্ট্রেশনএভাবেই দুই বোন একে অপরের হাত ধরে চলেন। বিবিসির ইলাস্ট্রেশন

পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে দুই মাস পর বাসায় ফিরতে পেরে আনা খুব খুশি হন। কিন্তু নিজেকে খুঁজে পেতে তাঁকে লড়াই করতে হয়। হতাশায় ভুগতেন। কবে ড্রাইভিং ক্লাসে বা কলেজে যেতে পারবেন, তা নিয়ে ভাবতেন। নিজের অক্ষমতায় রেগেও যেতেন।

লরেন বলেন, ‘আনা ভাবত, সে কোনো ভুল করছে না। অথচ সে সকালে একই কাজ তিনবার করত। কেউ তার সামনে দ্রুত কথা বললে তা সে ধরতে পারত না। এসব নিয়েও হতাশা ছিল তার।’

কখনোবা আনার হতাশা ক্ষোভে পরিণত হতো। তিনি দরজায় বাড়ি দিতেন। লরেনের সঙ্গে চিল্লাচিল্লি করতেন, গালিগালাজ করতেন। লরেন জানতেন, এগুলো সবই মাথায় আঘাতের কারণে হচ্ছে, এরপরও গালি শুনলে তাঁর মন খারাপ হতো।

মাঝেমধ্যে বোনকে নিয়ে আগের মতো বাড়ির কাছে হাঁটতে বের হতেন লরেন। আনার ভাষায়, লরেনই একমাত্র মানুষ, যে তাঁকে পুরোপুরি বুঝতে পারেন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে পরিবারটি স্কটল্যান্ডে ফিরে যায়, যাতে আনার মা তাঁর দিকে খেয়াল রাখতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আনন্দে রাখার চেষ্টা করলেও হতাশা কাটিয়ে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যায় আনার জন্য। ওই বছরে শীতে একদিন তাঁকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা শহরের ক্রিসমাস বাজারে গিয়েছিলেন। সবাই একসঙ্গে খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ঠিক ওই সময়ে আনা গোঁ ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি রেস্টুরেন্টে ঢুকবেন না, বাসায় চলে যাবেন। বাবা দারুণ একটি হ্যাট কিনে দেবেন বলে আদর করলেও তাঁকে রেস্টুরেন্টে ঢোকানো যায়নি।

ওই দিনের কথা তুলে ধরে লরেন বলেন, ‘আমি দেখছিলাম, আনা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। সে হতাশায় মুষড়ে পড়ছিল।’

২০১৭ সালের মে মাসে লরেন প্রতিবন্ধীদের এক সেবাকেন্দ্রে চাকরি নেন। আনার দুর্ঘটনা তাঁকে ধৈর্য ধরতে ও সহানুভূতিশীল হতে শিখিয়েছে।

আনাও নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চান। কিন্তু এখনো কিছু করার মতো সাহস সঞ্চয় করতে পারেননি। প্রায়ই অভিযোগ করেন, তিনি একঘেয়ে বোধ করছেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আনা আবার তাঁর গ্রাফিক ডিজাইন ক্লাসে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে ক্লাস করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

আনা বলেন, শিক্ষক তাঁকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দেন। কিন্তু তিনি মনোযোগ রাখতে পারতেন না, একঘেয়ে লাগত তাঁর। হতাশায় ভুগতেন। কিন্তু কাউকে পাশে পেতেন না, যিনি তাঁকে উৎসাহ দেবেন বা মনে করিয়ে দেবেন তিনি কী করছিলেন।

আনা বলেন, ‘থেরাপিস্টরা আমাকে তিনটি ছবি দেখাতেন, পরের সেশনেই আমি তা ভুলে যেতাম। তাঁরা আমাকে বিভিন্ন নম্বরের মধ্যে ৭ তুলতে বলতেন, আমি বুঝতেই পারতাম না কোনটা ৭। আমি কেন হাসপাতালে, তাও বুঝতে পারতাম না। বাড়ি যেতে জোর করতাম। আমার মাথায় সবকিছু জট পাকিয়ে যেত।’

এ বছর আনার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। তাঁর স্মৃতি আরও চলে যেতে থাকে। যখন-তখন খেপে উঠতে থাকেন। খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দেন। তাঁর ওজন দ্রুত কমতে থাকে। এ অবস্থায় তাঁর মা তাঁকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। গত মাসে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন তিনি। পরিবারটির আশা, আনা আবার খাওয়াদাওয়া করবেন, সুস্থ হবেন, স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।

লরেন বলেন, ‘আমি ওকে খুশি দেখতে চাই।’

আনার অবস্থা ভালো নয়, এর মধ্যেও তিনি ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করেন। আশা করেন, একদিন লন্ডনে হ্যারি পটার ওয়ার্ল্ড পরিদর্শন করবেন এবং আইসল্যান্ডে নর্দার্ন লাইটস দেখবেন। তিনি জানান, যমজ বোন লরেনের কাছে তাঁর ঋণের কোনো শেষ নেই। তাঁর জীবনকে বোনই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বোনকে নিয়ে আনা বলেন, ‘যে–কারও চেয়ে লরেন সবকিছুতে আমাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে, সমর্থন দেয়। দুর্ঘটনার আগে আমিই তার দিকে খেয়াল রাখতাম, এখন তা উল্টে গেছে। সে সব সময় হাসে, সব সময় শক্ত থাকে এবং আমাকে লড়াই করতে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন