আত্মপ্রত্যয়ী জানবাজ এক মহিলার নাম হাসিনা আহমেদ

Presentation1-53.jpg

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী:
এডভোকেট হাসিনা আহমেদ। কক্সবাজার-১ আসনে ২৩ দলীয় জোট মনোনীত একক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী। গত ২৭ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেই আর থেমে নেই। চকরিয়া-পেকুয়া’র প্রতিটি এলাকায় সরব পদচারনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণমানুষের দ্বারে দ্বারে কেটে যায় প্রতিটি মুহুর্ত-প্রতিটি ক্ষণ। চকরিয়া-পেকুয়ার ২৫ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এমন কোন এলাকা নেই যখানে হাসিনা আহামেদের যাওয়া হয়নি। কোন কোন এলাকায় একাধিকবারও গিয়েছেন। সৃষ্টি করেছেন-তাঁর প্রতি গণমানুষের পর্বতসম ভালবাসা আর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। মানুষ যে মানুষকে কত আপন করে নিতে পারে-এডভোকেট হাসিনা আহমেদের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারনা বাস্তবে না দেখলে সেটা পুরোপুরি উপলদ্ধি করা সম্ভব নয়। এই জনবান্ধব নারী’র জনপ্রিয়তার থার্মোমিটারের পারদ যেন শুধু উপরের দিকেই উঠছেই আর উঠছে। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহামেদের সুযোগ্য সহধর্মিনী, একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট হাসিনা আহমেদের জন্য এই জনপ্রিয়তা আর গণমানুষের ভালবাসাই এখন বড় ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জনপ্রিয়তা ও ভালাবাসা প্রতিনিয়ত তাঁর শত্রু সৃষ্টি করেছে। ইষার্ন্বিত হয়ে পড়ছে মহল বিশেষ। পরশ্রীকাতরতায় ভুগছে নিন্দুকেরা।

গত ২ ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মন্ঞ্জুকে পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করার পর সরাসরি পেকুয়া থানায় স্বশরীরে গিয়ে এই অদম্য দুঃসাহসী মহিলা এডভোকেট হাসিনা আহমেদ গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এডভোকেট হাসিনা আহমেদের সেদিন পেকুয়া থানায় যাওয়ার খবরে হাজার হাজার মানুষ থানা এলকায় জড়ো হয়েছিল। এই আসনের আওয়ামীলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এডভোকেট হাসিনা আহমেদের তুখোড় জনপ্রিয়তায় এখন রীতিমতো ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বর চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে গণসংযোগ চলাকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও চকরিয়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি নাসির উদ্দিন হায়দারকে গুরুতর আঘাত সহ ৫ জনকে আহত করে। এ হামলার ঘটনা চকরিয়া থানায় অবহিত করতে গিয়ে এই অদম্য আত্মপ্রত্যয়ী নারী এডভোকেট হাসিনা আহমেদ চকরিয়া থানার ভিতরে থাকাবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা থানার বাহিরে বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষন করে। থানার ভিতরেই সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন-এড. হাসিনা আহমেদ সহ তাঁর সাথে থাকা নেতাকর্মীরা। সন্ত্রাসীদের তান্ডবের কারণে থানার ভেতর প্রায় দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশী প্রহরায় এডভোকেট হাসিনা আহমেদ সহ অন্যান্যরা চকরিয়া থানা ত্যাগ করে। ১৫ ডিসেম্বর শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে এডভোকেট হাসিনা আহমেদ গণসংযোগ করার সময় স্থানীয় একজন সাবেক ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের খাটাখালী উঁচু ব্রীজ এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে এডভোকেট হাসিনা আহমেদকে হত্যার জগন্য চেষ্টা চালায়। এ হামলায় স্থানীয় লোকজন এডভোকেট হাসিনা আহমেদকে তাঁর গাড়ি থেকে দ্রুত নামিয়ে নিয়ে তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেন। এডভোকেট হাসিনা আহমেদ দুর্বৃত্তদের এ ন্যাক্কারজনক হামলায় স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কোনরকমে প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর নিজের গাড়ি, গণমাধ্যমের গাড়ি সহ ৪টি গাড়ি ভাংচুর, ৩ টি মোটরসাইকেল ভাংচুর, তাঁর কর্মীদের ২ টি মটর সাইকেল ছিনতাই করা হয়। এ নগ্ন হামলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রায় এক’শ নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজারের রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে লিখিত অভিযোগ করা হয় এবং বিকেলে কক্সবাজার জেলা বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এছাড়াও এই আসনে এডভোকেট হাসিনা আহমেদ ও তাঁর নেতাকর্মীরা আরো বেশ ক’টি সশস্ত্র হামলার শিকার হন।
হামলা করে চকরিয়া-পেকুয়াতে ধানের শীষ ও এডভোকেট হাসিনা আহমেদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রাকে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের প্রার্থী ঠেকাতে পারবেন-এরকম হয়ত মনে করেছিলেন। সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের লেলিয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষ মনে করেছিল-হয়ত ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া যাবে। তাঁকে ও তাঁর নেতাকর্মীদের অসহায় বানানো যাবে। কিন্তু না-প্রতিপক্ষের হিংস্র ও নগ্ন থাবায় একটু ক্ষত বিক্ষত হলেও গণমানুষের পূর্ণিমার জোয়ার যেন বালির বাঁধকে ভেঙ্গে খান খান করে দিচ্ছে। যতবেশী হামলা করা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে-মিথ্যা সমালোচনা করা হচ্ছে-তত বেশী এডভোকেট হাসিনা আহমেদের মনোবল ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে আর বাড়ছে। আবার হাসিনা আহমেদের দৃঢ় মনোবলের জন্য তাঁর নেতাকর্মী-সমর্থকেরাও দিন দিন আরো উজ্জীবিত হচ্ছে। প্রেরণা ও প্রত্যয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে। পক্ষান্তরে-প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের লোকজন শুধু হতাশ আর নিরাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রয়োজনে যেকোন সময়, যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত এই জানবাজ অদম্য আত্মপ্রত্যয়ী মহিলাকে কেউ যেন দাবাইয়া রাখতে পারবেনা। নিজ এলাকার গণমানুষের অকৃত্রিম ভালবাসার ঋন যেন তিনি শোধ করতে চায়। এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে পেটের সন্তানের মতো সবসময় নিরাপদে আগলে রাখতে চায়। সবসময় সবকিছুতেই আল্লাহর অসীম রহমত কামনা করেন এই জানবাজ মহিলা। একইভাবে একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া তিনি আর কাউকে ভয় পাননা। এভাবে অহিংস পথে চলতে চলতে ৩০ ডিসেম্বর বিজয় সুনিশ্চিত করে এই জানবাজ মহিলাটি যেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিজয়ের সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চায়। হিংস্র গোঁখরার ফনা আর ক্ষমতাসীনদের চোখ রাঙ্গানীতে নির্ভয়ে থাকা এডভোকেট হাসিনা আহমেদ যেন চকরিয়া-পেকুয়ার লক্ষ লক্ষ জনতার ঐক্যবদ্ধ ফ্লাটফর্মের একটি মুর্ত প্রতীক। সাবাস-এডভোকেট হাসিনা আহমেদ। অনুকরণীয় তুমি, অনুসরণীয় তুমি। স্যালুট তোমায়-শত প্রতিকূলতার মাঝে লক্ষ জনতাকে সাথে নিয়ে নিজেকে নির্বাচনের কুসুমাস্তীর্ণ ময়দানে সবসময় সরব ও সক্রিয় রাখায়। এগিয়ে যাও। বিজয় তোমাকে হাতছানি দিচ্ছে।

লেখক: এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, ঢাকা।

আপনার মন্তব্য লিখুন